ভোলায় অতিবৃষ্টির তাণ্ডব
২৬ কোটি টাকার ফসল পানির নিচে, দিশেহারা ২৩ হাজার কৃষক
ভোলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ এখন পানিতে থৈ থৈ করছে। চলতি মে মাসের রেকর্ড ভাঙা অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তছনছ হয়ে গেছে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় জেলায় প্রায় ২৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন জেলার ২৩ হাজারেরও বেশি কৃষক।
কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ১ হাজার ৪২৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চিনাবাদামের; প্রায় ৬৯৫ হেক্টর জমির বাদাম খেত এখন পানির নিচে। এছাড়া ২৬৫ হেক্টর সয়াবিন, ১৫০ হেক্টর মুগডাল, ১০০ হেক্টর কাঁচামরিচ, ৬৮ হেক্টর শাক-সবজি ও ৩৫ হেক্টর ফেলন ডাল সম্পূর্ণ বা আংশিক নষ্ট হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে জেলায় ৩ হাজার ৯৬৭ মেট্রিক টন ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া, কাচিয়া, চরসামাইয়া, আলীনগর ও বাপ্তা ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে এক বিষাদময় চিত্র। মাঠের পর মাঠ সয়াবিন ও চিনাবাদাম খেত পানির নিচে পচে নষ্ট হচ্ছে। কোথাও কোথাও কৃষকেরা শেষ সম্বলটুকু রক্ষার আশায় হাঁটু সমান পানিতে নেমে আধপাকা ফসল তোলার চেষ্টা করছেন। আবার অধিকাংশ জায়গায় লাভের আশা ছেড়ে দিয়ে অনেক কৃষককে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইউনুস পাটোয়ারী তার কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘ধারদেনা করে ৮৪ শতাংশ জমিতে সয়াবিন চাষ করেছিলাম। এবার ফলনও হয়েছিল চমৎকার। কিন্তু মে মাসের এই হঠাৎ বৃষ্টি সব শেষ করে দিল। আমার প্রায় ১ লাখ টাকার ফসল খেতেই পচে গেছে। এখন অবশিষ্ট যা আছে তা কাটতে গেলে শ্রমিকের খরচই উঠবে না, তাই ওভাবেই ফেলে রেখেছি।’
একই আক্ষেপ ঝরে পড়ল কৃষক আব্দুল হালিমের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘৩ গণ্ডা জমিতে বাদাম চাষ করেছিলাম। কয়েকদিন পরেই ফসল তোলার কথা ছিল। কিন্তু জলাবদ্ধতায় মাটির নিচেই সব বাদাম পচে গেছে। সরকারি সহযোগিতা না পেলে আগামীতে আর চাষবাস করতে পারব কি না জানি না।’
চাষিদের মতে, ফসল কাটার এই মৌসুমে শুকনো খেত সবচেয়ে জরুরি ছিল। কিন্তু অসময়ের এই জলাবদ্ধতা তাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. শামীম আহমেদ বলেন, ‘অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় কৃষকেরা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আমরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করেছি এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়েছি।’
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা যাতে এই ধাক্কা সামলে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, সেজন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ।
