ঢাকা রবিবার, ১৭ই মে ২০২৬, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


মধ্যপ্রাচ্যে স্বস্তির বার্তা: ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ল আরও ৪৫ দিন


প্রকাশিত:
১৬ মে ২০২৬ ১৪:০৯

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত দুই দিনের নিবিড় সংলাপ শেষে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়াতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। শুক্রবার বিকেলে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজতে ১৬ এপ্রিল শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতিটি আরও ৪৫ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামীকাল রবিবার শেষ হওয়ার কথা ছিল।

চলতি বছরের মার্চের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের উত্তেজনার মধ্যে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর জবাবে লেবাননে বড় ধরনের বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এই ভয়াবহ যুদ্ধে দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। পরবর্তীতে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও সীমান্তে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলছিল।

ওয়াশিংটনের এই বৈঠকটি ছিল গত কয়েক দশকের মধ্যে ইসরায়েল ও লেবাননের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরাসরি যোগাযোগ। টমি পিগট জানিয়েছেন, কেবল যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধিই নয়, আগামী ২৯ মে পেন্টাগনে একটি নতুন ‘নিরাপত্তা ট্র্যাক’ শুরু হবে। এছাড়া আগামী ২ ও ৩ জুন রাজনৈতিক পর্যায়ের আলোচনার জন্য দুই পক্ষ আবারও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে বসবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আশা করছে, এই প্রক্রিয়া দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, একে অপরের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি এবং সীমান্তে প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

লেবাননের প্রতিনিধিদল এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, "যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি নাগরিকদের জন্য স্বস্তির বড় সুযোগ। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় এই আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির দিকে এগোতে চাই, যা আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করবে।"

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার আলোচনাকে ‘খোলামেলা ও গঠনমূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "আলোচনায় অনেক চড়াই-উতরাই থাকতে পারে, তবে সফল হওয়ার সম্ভাবনা এবার অনেক বেশি। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে আমাদের নাগরিক ও সেনাদের নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার পাবে।"

বিশ্লেষকদের মতে, ৪৫ দিনের এই মেয়াদ বৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। এখন সবার নজর ২৯ মে পেন্টাগনে শুরু হতে যাওয়া নিরাপত্তা সংলাপের দিকে।